মো তুহিন মোল্লা,
নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদক কারবারি আখ্যা দিয়ে হিরু শিকদার নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার নলদী ইউনিয়নের ব্রহ্মানীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় হিরু শিকদারের ছেলে মো. সবুজ শিকদার বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নলদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজিজ।
ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের সামাদ শেখ তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় রোববার সন্ধ্যায় রামদা, লোহার রড, হাতুড়ি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সামাদ শেখের নেতৃত্বে একদল লোক হিরু শিকদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির মুদিদোকান ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাড়িতে বেড়াতে আসা তার জামাতার নতুন মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী হিরু শিকদার বলেন, সামাদ শেখের নেতৃত্বে মিরাজ মোল্যা, নজরুল শেখ, সবুজ শেখ, আল-আমিন মোল্যা, রানা শেখ, সিরাজ মোল্যা, মারুফ শেখ, মঞ্জুর শেখ, সাজ্জাদ মোল্যা ও শফিকুল শেখসহ আরও অনেকে তার বাড়িঘর, দোকানপাট ও জামাতার মোটরসাইকেলে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, হিরু শিকদারকে কখনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে শোনেননি। তার দাবি, পূর্বের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সামাদ শেখ। তিনি বলেন, হিরু শিকদার মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত এবং এলাকাবাসী একাধিকবার তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বললেও তিনি শোনেননি। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন বলে দাবি করেন।
অভিযুক্ত মিরাজ মোল্যা দাবি করেন, তারা হামলায় জড়িত নন। তার ভাষ্য, ‘নলদী ইসলামী যুব সংগঠন’-এর কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।
তবে ব্রহ্মানীনগর উত্তরপাড়া ইসলামী যুব সংগঠনের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
নলদী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আজিজ বলেন, ‘একজন মাদক কারবারির বাড়িতে ভাঙচুর হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে মীমাংসার জন্য কাউকে ফোন করে ডেকে আনার অভিযোগ সঠিক নয়।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..