আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
কালিয়াকৈরে ইন্টারনেট লাইনে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, দুই হাত হারালেন তরুণ সোহান মাদকাসক্তি মুক্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের শাসনামলের ষড়যন্ত্রমূলক মামলার পাঁচ বছর: স্মৃতিচারণে সাংবাদিক আককাস সিকদার ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় কৃষক পরিবারের ফসলের পরিচর্যা ও সংগ্রহে এগিয়ে এলো আনসার-ভিডিপি পাঁচবিবিতে খাল খননের অব্যয়িত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও নড়াইলের কালিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় অটোভ্যান চালকের মৃত্যু চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান দোজখ দেখে ফেলেছে: এসপি মাসুদ বেড়ায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে ডেভিড ইমনসহ ৫ সন্ত্রাসীর ১০ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ পটুয়াখালীতে হেরোইনসহ দুই নারী আটক ঠিকাদারের মৃত্যুর পর বন্ধ সড়ক সংস্কার, দ্রুত কাজ শুরুর দাবিতে মানববন্ধন শ্রীমঙ্গলে পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ তিন কারবারি গ্রেপ্তার সরকারি বীজ খোলা বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির দায়ে ৭দিনের কারাদণ্ড শ্রীপুরে ৩ বিয়ের পর পরিবারকে বঞ্চনা, স্ত্রী-সন্তানকে পিটিয়ে যখম থানায় অভিযোগ খুলনা বিভাগীয় প্রেস ক্লাব,কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক কমিটি অনুমোদন
Banner Advertisement

বড়লেখায় চা-বাগানের নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে সাবাড়

প্রতিবেদকের তথ্য : নিরপেক্ষ দর্পণ ডেস্ক
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 30, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 59
ছবির ক্যাপশন :

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখার সাবাজপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের সাবাজপুর চা-বাগানে টি বোর্ড, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই প্রায় দুই মাস ধরে ব্যাপক হারে গাছ কাটান অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগে সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই ব্যাপক গাছ কাটার সত্যতা পান।

এসিল্যান্ড নাঈমা নাদিয়া তাৎক্ষণিক ৫শতাধিক ঘনফুট কাটা গাছ যে অবস্থায় আছে সেভাবে সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে এবং বিভিন্ন টিলায় অবৈধভাবে কেটে রাখা অন্যান্য গাছগুলো পরিমাপ করতে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। গত ৩ দিন ধরে বনবিভাগ কাটা গাছের মাপযোগ করছে।

স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত দুই মাসে চা বাগানের দক্ষিণাঞ্চলের বৈকন্ঠনগর, বিপিন টিলা, আনডর ও আশপাশের  বিভিন্ন টিলার কয়েকশ গাছ কেটে ফেলেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে বিয়ানীবাজারের কাঠ ব্যবসায়ি নাসির উদ্দিন ও স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির নিকট বাগান কর্তৃপক্ষ বিধিবর্হিভুতভাবে গাছগুলো বিক্রি করেছে। পাহাড়ি ঢালে থাকা বড় বড় গাছ কেটে হাতি দিয়ে টেনে নিচে নামিয়ে ট্রাকযোগে বাগান কার্যালয় ও ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে জড়ো করে রেখে ভোরবেলা লোকচক্ষুর আড়ালে ক্রেতারা বিভিন্ন স-মিলে নিয়ে যায়। সরকারি লিজের ভূমির এসব গাছ কেটে বিক্রির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ৪ঠা জুলাই বিকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাগান পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানে কেটে রাখা বিপুল পরিমাণ গাছ দেখতে পান। এ সময় বাগান কর্তৃপক্ষ গাছ কাটার পক্ষে বনবিভাগ, বাংলাদেশ চা বোর্ড, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

পরে সহকারী কমিশনার নাঈমা নাদিয়া ও রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল মৃধা (সহকারি বন সংরক্ষক), ফরেস্ট রেঞ্জার নীলোৎপল সরকার বাগানের অফিস সংলগ্ন স্থানে কেটে রাখা ৫শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেন। এসময় সহকারি কমিশনার ভূমি রোববার পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে টিলার বিভিন্ন স্থানে পড়ে কেটে রাখা গাছগুলোসহ বাগান কার্যালয়, ফ্যাক্টরী প্রাঙ্গণে পাওয়া গাছসহ অনুমোদনহীন কাটা সকল গাছের পরিমাণ নির্ধারণ করতে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাইমা নাদিয়া জানান, অভিযোগ পেয়ে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুল পরিমাণ কাটা গাছ পান। বাংলাদেশ চা বোর্ড ও বনবিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই চা-বাগান গাছগুলো কেটেছে, যা বৈধ নয়। আপাতত গাছগুলো সংরক্ষণ করতে বাগান কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাগানের ভেতরের কাটা গাছের পরিমাপ করে (মেজারমেন্ট) প্রতিবেদন দিতে বনবিভাগকে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বনবিভাগের বড়লেখা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা নীলোৎপল সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাগান কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গাছগুলো কেটেছে। এতে সরকারের রাজস্ব ফাঁকিরও আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রথম দিন বিধিবর্হিভুতভাবে কাটা প্রায় ৫০০ ঘনফুট গাছ পাওয়া যায়। এসিল্যান্ডের নির্দেশে রোববার বাগানের ভেতরে গিয়ে ১৩০টি গাছের মোতা ও আরো ২ শতাধিক ঘনফুটসহ ৭শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করেছেন। আরোও অনেক কাটা গাছ রয়েছে। সোমবারও পুনরায় গিয়ে বাকিগুলো মেজার্মেন্ট করছেন। অবৈধভাবে কাটা গাছের পরিমান হাজার ঘনফুট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন। মাপযোগ চূড়ান্তের পর প্রতিবেদন জমা দিবেন।

সাবাজপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাহিদ আহমদ চৌধুরী জানান, বাগানের মোট ভূমির আড়াই পার্সেন্ট ভূমিতে প্রতিবছর চা আবাদ বর্ধিত করতে হয়। টি বোর্ডের এই নির্দেশনা প্রতিপালন করতেই ১২৫ একরের রোগাক্রান্ত ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ গাছ অপসারনের জন্য চলিত বছরের এপ্রিলে আবেদন করা হয়। যা অনুমোদনের পর্যায়ে আছে। অনুমোদনের পূর্বে গাছ কাটা বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে বিলম্বিত হওয়ায় চা আবাদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই গাছগুলো কাটতে হয়েছে।

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
Banner Advertisement
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
Banner Advertisement