এইচ এম নাসির উদ্দিন,ঝালকাঠি সংবাদদাতা:
ঝালকাঠির সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের বিরুদ্ধে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২১ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলার পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহকর্মী সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্ক্ষী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, সাংবাদিক আক্কাস সিকদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইসিটি আইনের মামলাটি তারই একটি উদাহরণ। তাদের দাবি, সত্য প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র ও চাপ প্রয়োগ করা হলেও তিনি আপসহীন থেকে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
বক্তারা স্মরণ করেন, মামলার সময় আককাস সিকদার ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর এবং চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাদের দাবি, প্রেসক্লাব থেকে তাকে বহিষ্কার করার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় এবং নানামুখী প্রতিকূলতা ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবে তিনি কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাগত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। ২০২১ সালে পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বে খুলনা থেকে ঢাকা পর্যন্ত কোরবানির পশু পরিবহনের সময় একটি ট্রাককে ১৯ স্থানে চাঁদা দিতে হতো। এ নিয়ে ঢাকার শিল্পী নেয়ামুল বাশার মনকা ফেইসবুকে আইজিপির দৃস্টি আকর্ষন করে একটি পোষ্ট দেন। ওই পোষ্টে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ব্যাঙ্গ করে ওকা এবং এই চাঁদাবাজির সাথে ওকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান জড়িত বলে কমেন্ট করেন সাংবাদিক আককাস সিকদার। এ ঘটনাকে পুজি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শারমীন মৌসুমি বাদী হয়ে আককাস সিকদারকে ১নম্বর এবং নেয়ামুল বাশারকে ২নং আসামী করে ঝালকাঠি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে।
স্মৃতিচারণে আককাস সিকদার বলেন, সাংবাদিকতা জীবনে এটিই প্রথম হয়রানির ঘটনা ছিল না। এর আগে ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে "পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ" শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পর তৎকালীন পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে গ্রেপ্তার করে একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। পরে সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। অন্যায়, হয়রানি ও নিপীড়নের রাজনীতি একদিন না একদিন ইতিহাসের বিচারের মুখোমুখি হয়। তারা বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সাংবাদিক যেন সত্য প্রকাশের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য স্বাধীন, নির্ভীক ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে আক্কাস সিকদার ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বক্তারা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সাফল্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের অধিকার ও জনস্বার্থে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..