আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শ্রীপুরে ৩ বিয়ের পর পরিবারকে বঞ্চনা, স্ত্রী-সন্তানকে পিটিয়ে যখম থানায় অভিযোগ খুলনা বিভাগীয় প্রেস ক্লাব,কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক কমিটি অনুমোদন গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে চট্টগ্রাবাসী, কটিয়াদীতে ১৬৫ শতক জমি নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন সালথায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মনুমুখ ইউনিয়নের সাধু হাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে আহত ৫ কুলাউড়া পৌর বিএনপি'র কমিটি স্থগিত ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে: মির্জা ফখরুল নাকে টিপলে দুধ বের হবে পাটোয়ারীর: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা নীলফামারী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শনে এমপি মাওলানা আব্দুস সাত্তার ফলন্ত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন বিশ্ব বাণিজ্য ও ঝুঁকি বহনকারী সমুদ্রযাত্রীদের স্মরণে পাবনায় সমুদ্রযাত্রী দিবস উদযাপিত নড়াইলে হাইট ব্যারিয়ারে ধাক্কা, নসিমন থেকে ছিটকে গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু
Banner Advertisement

কটিয়াদীতে ১৬৫ শতক জমি নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদকের তথ্য : নিরপেক্ষ দর্পণ ডেস্ক
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 29, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 18
ছবির ক্যাপশন :

মোঃ জজ মিয়া,‌কিশোরগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সহশ্রাম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের আতখলা গ্রামের ১৬৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগে প্রকাশিত একাধিক সংবাদকে "মিথ্যা, বানোয়াট ও একপাক্ষিক" দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তারা বলছেন, জমিটি তারা জবরদখল করেননি; বরং বৈধ দলিলের ভিত্তিতে ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোগদখলে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আতখলা গ্রামে হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া (রতন)-এর নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে তাদের ‘জবরদখলকারী’ ও হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ভূমিদস্যু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং মালিকানা সংক্রান্ত পর্যাপ্ত দলিলপত্র তাদের কাছে রয়েছে। প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করায় তারা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।

তাদের দাবি অনুযায়ী, পারদিয়াকুল এলাকার মো. আজমের পুত্র মো. আলতাব কর্তৃক দায়ের করা কিশোরগঞ্জ ৩য় মুন্সেফী আদালতের ৩০৩/১৯১৯ নম্বর মামলার সূত্রে সম্পত্তিটি নিলামে ওঠে। পরে নখলা গ্রামের কৃষ্ণ চন্দ্র চক্রবর্তীর পুত্র দুর্গাদাস চক্রবর্তী প্রকাশ্য নিলামে জমিটি ক্রয় করেন।

পরবর্তীতে ১৯২৭ সালের ৩০ নভেম্বর নিবন্ধন নম্বর ৫৩৭৬-এর সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে দুর্গাদাস চক্রবর্তীর কাছ থেকে সুলতান ভূঁইয়া সম্পত্তিটি ক্রয় করেন। এরপর ১৯৩২ সালের ১০ নভেম্বর নিবন্ধন নম্বর ২২৯৭-এর সাফ কাওলা দলিলের মাধ্যমে সুলতান ভূঁইয়া তার স্ত্রীর নামে সম্পত্তিটি হস্তান্তর করেন। এসব ধারাবাহিক দলিল তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এছাড়া তারা বলেন, ১৯৮৮ সালে আর.ও.আর. (R.O.R.) রেকর্ডের বিরুদ্ধে হাজী গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া আদালতে মামলা করে ডিক্রি লাভ করেন এবং সেই ডিক্রির কপিও তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্চা-সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও তারা জানান।

জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বক্তারা বলেন, "আমরা কোনো জবরদখল করিনি। ৩৮ বছরেরও অধিক সময় ধরে আমরাই ওই জমির বৈধ ভোগদখলে আছি।"

সালিশে না যাওয়ার অভিযোগের জবাবে তারা বলেন, "সংবাদে বলা হয়েছে কাগজপত্র না থাকায় আমরা সালিশে যাইনি। এটি সঠিক নয়। আমাদের কাছে সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তারা সালিশের কথা বলে গোপনে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাই আমরা সালিশে না গিয়ে গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তে আদালতেই বিষয়টির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়াকে ‘ভূমিদস্যু’ আখ্যা দেওয়ারও তীব্র প্রতিবাদ জানান বক্তারা। তারা বলেন, "হাজী রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া একজন পরোপকারী, নির্লোভ ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। তাকে ভূমিদস্যু বলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।"

পাল্টা অভিযোগ তুলে তারা আরও বলেন, "প্রকৃতপক্ষে ভূমিদস্যু তারা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা এংরাজ ও যুবলীগ নেতা সাজ্জাত গ্রামের সরকারি রেকর্ডভুক্ত রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, যা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।" তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, বিচারাধীন একটি বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগেই তাদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদের সংশোধন বা প্রত্যাহারের দাবিও জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আতখলা গ্রামের ১৬৫ শতক জমি জবরদখলের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের সংবাদ একটি অনলাইন গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদের প্রতিবাদ জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবেদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য ও অভিযোগসমূহ সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।


প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
Banner Advertisement
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
Banner Advertisement