তিমির বনিক,মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় এক হাজার ফলন্ত কমলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ২৩শে জুলাই রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগানটি সরেজমিন পরিদর্শন করেন তাঁরা।
এর আগে উচ্ছেদ অভিযানে ফলন্ত কমলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান হলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান। অন্য দুই সদস্য হলেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান ও মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসন মোসা. শাহিনা আক্তার।
কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান বলেন, ‘মৌলভীবাজারের এই এলাকায় কিছু গাছ কাটার বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার একটি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। তারই অংশ হিসেবে আমরা এখানে এসেছি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য গ্রহণ করেছি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। এই গৃহীত বক্তব্য এবং তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে আমরা যথাসময় অতি শিঘ্রই সরকারের কাছে দাখিল করব। তারপর সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
এর আগে ১৬ই জুলাই বন বিভাগ উচ্ছেদ অভিযানে উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় প্রভাবশালীদের জবরদখলে থাকা পাঁচ একর ভূমি উদ্ধার করেছে। এই অভিযানে দীর্ঘ আট বছর ধরে গড়ে তোলা সালমা বেগম ও আলিম উল্লা দম্পতির ফলন্ত কমলাবাগানটি ধ্বংস করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এনজিও থেকে চড়া সুদে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গড়া এই বাগানের ফল বিক্রি করে ঋণের বোঝা শোধ করার স্বপ্ন থাকলেও নিয়মিত মাসোহারা (চাঁদা) দিতে না পারায় প্রতিহিংসামূলকভাবে তাঁদের এই বাগান কেটে ফেলা হয়েছে। এমন বক্তব্যে আর বাস্তবতার সাথে কতটুকু যুক্তিযুক্ত পরিলক্ষিত হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
প্রিন্ট করুন
ফটো কার্ড
এ জাতীয় আরো খবর..