আজকের তারিখ : | বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শ্রীপুরে ৩ বিয়ের পর পরিবারকে বঞ্চনা, স্ত্রী-সন্তানকে পিটিয়ে যখম থানায় অভিযোগ খুলনা বিভাগীয় প্রেস ক্লাব,কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক কমিটি অনুমোদন গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে চট্টগ্রাবাসী, কটিয়াদীতে ১৬৫ শতক জমি নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন সালথায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত মনুমুখ ইউনিয়নের সাধু হাটি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিটিয়ে আহত ৫ কুলাউড়া পৌর বিএনপি'র কমিটি স্থগিত ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি মাদকবিরোধী অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে: মির্জা ফখরুল নাকে টিপলে দুধ বের হবে পাটোয়ারীর: প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করে মুন্ডুমালায় খাবার পানির সমস্যা নীলফামারী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের চিত্রপ্রদর্শনী পরিদর্শনে এমপি মাওলানা আব্দুস সাত্তার ফলন্ত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন বিশ্ব বাণিজ্য ও ঝুঁকি বহনকারী সমুদ্রযাত্রীদের স্মরণে পাবনায় সমুদ্রযাত্রী দিবস উদযাপিত নড়াইলে হাইট ব্যারিয়ারে ধাক্কা, নসিমন থেকে ছিটকে গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু
Banner Advertisement

ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে বিপুল টাকা আত্মসাৎ

প্রতিবেদকের তথ্য : নিরপেক্ষ দর্পণ ডেস্ক
  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 28, 2026
  • সংবাদটি দেখেছেন: 57
ছবির ক্যাপশন :

মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গাজীর বাজার ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে উধাও হয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মো. মাসুম বিল্লাহ। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন গ্রাহকের আনুমানিক ৭০ থেকে ৭২ লক্ষ টাকা তুলে নিয়ে তিনি চম্পট দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মাসুম বিল্লাহ উপজেলার পান্তা ডাঙ্গা গ্রামের মসলেম উদ্দীনের ছেলে এবং কালীগঞ্জ উপজেলার সাবেক জামায়াত আমির ও  উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা ওলিউর রহমানের জামাতা।
​এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে।​অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীর বাজার ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার অধীনে প্রায় ২ হাজার ৭ শত গ্রাহক রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই প্রবাসী বা রেমিটেন্স যোদ্ধা।
​প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন:
​"মাসুম বিল্লাহ আমার এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭ বছর ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছিল। তাকে আমরা অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু গত ২৪ জুন হঠাৎ ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে আমরা বিস্মিত হই। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সে ২৫-৩০ জন গ্রাহকের প্রায় ৭০-৭২ লক্ষ টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করেছে এবং বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে। তবে আমরা মাসুম বিল্লাহর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রতিটি গ্রাহকের কষ্টের টাকা তারা ফেরত দেবেন।"
​​গাজীর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মন্ডল এই ঘটনাকে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করে বলেন:
​"একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বহু মানুষের কষ্টের সঞ্চয় এভাবে লুট হওয়া দুঃখজনক। আমরা বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান করা হয় এবং গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পান।"
​স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) জাফর বলেন:
​"ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে আসি এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এখানে বহু রেমিটেন্স যোদ্ধার টাকা রয়েছে। মাসুম বিল্লাহর মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন কাণ্ড ঘটাবে তা ভাবা যায় না। আমরা ভুক্তভোগীদের পাশে আছি এবং আইনের মাধ্যমে এর সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"​টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। ভুক্তভোগী গ্রাহক মুনতাজ ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন:
​"আমার হাড়ভাঙা খাটুনির জমানো টাকা এই ব্যাংকে রেখেছিলাম নিরাপদে থাকবে বলে। ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহ আমার বিশ্বাস নিয়ে খেলা করেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।"​আরেক ভুক্তভোগী নারী সালেহা বলেন:​"সংসার চালিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলাম ভবিষ্যতের জন্য। বিশ্বাসের মর্যাদা এভাবে লুটে নেবে তা জানলে কোনোদিন এই শাখায় টাকা রাখতাম না। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের টাকা ফেরত না দিলে আমাদের পথে বসতে হবে।"
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ম্যানেজার মো. মাসুম বিল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ​বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গাজীর বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। বর্তমানে ওই ইসলামী ব্যাংকিং এজেন্ট শাখায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড
Banner Advertisement
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
Banner Advertisement