Logo
প্রিন্টের তারিখ: 08 August 2026 | প্রকাশের তারিখ: Aug 8, 2026

সংবাদ শিরোনাম : কালিগঞ্জে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কালিগঞ্জে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখল, নারী নির্যাতন এবং একাধিক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সৈয়দ হেমায়েত আলী (ছোট বাবু) ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তার, মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)  দুপুরে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মোছা. নাজমিন সুলতানা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, দুদলী গ্রামের মৃত মীর রমজান আলীর ছেলে সৈয়দ হেমায়েত আলী (ছোট বাবু) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ওই বাহিনীর সদস্যরা জমি ও মৎস্যঘের দখল, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, চাঁদা দাবি, নারী নির্যাতন এবং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ ব্যক্তিদের বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করছেন। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছেন না।

নাজমিন সুলতানা বলেন, সৈয়দ হেমায়েত আলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থাকাকালে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় সমালোচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দলটির ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।

তিনি একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর শেখ ফয়েজ আলী, শেখ মজিদসহ কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কালিগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে তিনি কালিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি সৈয়দ হেমায়েত আলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক সেনাসদস্য নাসির উদ্দীনের পরিবারের ওপর হামলা, চাঁদা দাবি ও বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগে কালিগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া নাজমিন সুলতানা অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট বোন তানিয়া সুলতানা, যিনি একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে সৈয়দ হেমায়েত আলী ও আওরঙ্গজেবের হামলার শিকার হন। তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসা নেন এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, এত গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি মামলার প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেননি এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারা বাদ দিয়েছেন, যা সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সৈয়দ হেমায়েত আলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানকে প্রত্যাহার করে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ, এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করা, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে নাজমিন সুলতানা বলেন, তাঁরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযোগগুলো তুলে ধরছেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারীঃ নির‌পেক্ষ দর্পণ
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF