মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা:
দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এখন পুরোদমে চলছে আম সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের কাজ। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের মোকাম সাপাহারে চাষি ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি।
আমচাষিদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব জাতের আমের দাম কম। অথচ সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে অধিকাংশ চাষিই লোকসানের মুখে পড়েছেন।
এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে ওজন নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিয়ম। বাজারে প্রচলিত এক মণ ৪০ কেজি হলেও সাপাহারের বিভিন্ন আমের আড়তে ৫২ থেকে ৫৫ কেজিকে এক মণ হিসেবে ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন চাষিরা। এতে প্রতি মণে অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৫ কেজি আম দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যা সরাসরি তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাষিদের দাবি, প্রাচীন ‘ঢলন’ পদ্ধতির মাধ্যমে ওজন নির্ধারণের কারণে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বহু বছর ধরে এ অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্য, আম উৎপাদনের চেয়ে এখন ন্যায্য ওজনে বিক্রি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আড়তদারদের শর্ত মেনে অতিরিক্ত ওজনে আম বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তাদের লাভের বড় অংশ হাতছাড়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে আমচাষিদের দাবি, বাজারে প্রচলিত ৪০ কেজিকে এক মণ হিসেবে কার্যকর করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। পাশাপাশি ওজনে অনিয়ম বন্ধ করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।